বৃহস্পতিবার, ২১ জুলাই, ২০১৬

লেখা এক গঙ্গাফড়িং :অমিত মাহাত

শ্রাবণের জলকাদায় পা ডুবিয়ে পথচলার শুরুটা ছিল অন্যরকম। মায়ের হাত ধরে আমাদের নিজস্ব ধানজমিনে বোনা বীজক্ষেতের সাথে পরিচয়। আলাপ। সম্পর্ক। মাটিমাখা সে সম্পর্ক।

দেহমনে ঘামগন্ধ আর কাদামাটির গন্ধ একাকার হয়ে রোদ মাখে। তখন জলকলমি ফুলে জলফড়িং এর সেকি দুরন্তপনা। শৈশবের স্বপ্নভূমি জুড়ে গুয়ে শালিখের বাচ্চাজোড়া লাফিয়ে চলে। আনন্দে লাফায় ঘাসফড়িঙ।

গঙ্গাফড়িং মাথার উপর দিয়ে দলবেঁধে আমার আকাশ ছাড়িয়ে অন্য আকাশে উড়ে যায়। যেতে যেতে কানে কানে বলেছিল, -চললুম গো। কোথাও যেওনি কো ।আমি বৃষ্টি নিয়ে ফিরব।

তাই আমি রয়ে গেলাম। রয়ে গেলাম আমার মাটিমাখা জীবনে। মেঘ ভেঙে বৃষ্টি আসে। মেঘ কেটে আবার রোদ হাসে। রামধনু রঙে আকাশ ভরে। আমার তবু মন আর ভরে না। আমাকে যে কথা দিয়েছিল গঙ্গাফড়িং। কই সে তো এলো না।

খসে পড়া বকের পালক কুড়িয়ে জড়ো করি। হেমন্তের পাকা আমড়া আঁটি কুড়িয়ে রাখি।  সে আসে না।

ইচ্ছে আমার বরাবরের। এই মাটি ছাড়ি আমি ওই আকাশে গঙ্গাফড়িং এর দেশে উড়ে যাব। বৃষ্টির দেশে চলে যাব। তারাদের দেশে, আলোদের দেশে কাঠের ঘোড়ায় চেপে ঘুরে বেড়াব। সে সব আর হলনা। মাঝে চলে গেল  হাওয়ায় উড়িয়ে উড়োমেঘ। উড়োজীবন। সে।
আজও লেখায় খুঁজি তাকে। তার দেশ। মাটি ছাড়িয়ে আকাশমুখো পার্থিব পথ। বৃক্ষজন্ম। অলীক। ভাসমান মেঘে রোদ এসে রঙছবির মুক্তি ঘটায়। লেখায় আমার মনের মুক্তি ঘটে।। 

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন